কলিকাতা হারবাল  আর্সেনিকের ঝুঁকিতে দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ।আর্সেনিকজনিত সমস্যা নিয়ে তাদের জীবনযাপন।

আর্সেনিকের ঝুঁকিতে দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ।আর্সেনিকজনিত সমস্যা নিয়ে তাদের জীবনযাপন - কলিকাতা হারবাল

November 25, 2019

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন পর্যন্ত দুই কোটি মানুষ আর্সেনিকযুক্ত দূষিত পানি পান করছেন। দেশে খাওয়ার পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হওয়ার দুই যুগ পরও সরকার এ সমস্যার প্রতিকারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৪২টি জেলার প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৭ কোটি মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০ বছরে আর্সেনিক দূষণের কারণে প্রতি ১৮ জনে ১ জনের মৃত্যু ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সর্বোচ্চ আর্সেনিক দূষণের শিকার। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় সবগুলোতেই মাটির নিচের পানিতে অধিকমাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। সে অনুসারে ধারণা করা হয় যে, দেশের প্রায় ৩ দশমিক ৫ কোটি থেকে ৭ কোটি মানুষ ক্রনিক আর্সেনিকোসিস ঝুঁকিতে রয়েছে। যেখানে আমাদের মোট জনসংখ্যা ধরা হয় ১৬ কোটি এবং দেশের লক্ষাধিক আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী রয়েছে। বাংলাদেশে আর্সেনিকোসিসের মূল কারণ ভূগর্ভস্থ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান ও জৈব আর্সেনিকযুক্ত (যেমন- শস্যকণা, শাকসবজি, গোশত, দুধ ইত্যাদি) খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ। যা নীরব ঘাতকের মতো মানবদেহের বহু ক্ষতি সাধন করে থাকে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত আর্সেনিক নিয়ে এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য।

আরও পড়ুন- 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী আর্সেনিক দূষণ একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। পৃথিবীর সব মহাদেশের পঞ্চাশটির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ পানিতে উচ্চমাত্রায় আর্সেনিক সনাক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ১৪০ মিলিয়ন মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, চিলি, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও সারাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে রয়েছে এর প্রকোপ। কারণ হাজার হাজার বছর ধরে নদীগুলো হিমালয় থেকে যে তলানী বা পলি বহন করে আসছে। তাতে রয়েছে আর্সেনিক। তা চুইয়ে জমা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানিতে। বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ অগভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপের ব্যাপক ব্যবহার এবং লাখ লাখ সেচ পাম্পের দ্বারা পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। শূন্যস্থান পূরণ হচ্ছে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস। অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া হয়ে খনিজ পদার্থ থেকে আর্সেনিক পৃথক হয়ে যাচ্ছে এবং তা জমা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ জলাধারে।সেই ভূগর্ভস্থ আর্সেনিক মিশ্রিত পানি পান করার দরুন, মানুষের দেহে আর্সেনিক বিষে আক্রান্ত করছে এবং আর্সেনিক আক্রান্ত মানুষগুলো ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জার্নাল ল্যানসেট-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। আড়াইহাজারে করা এ গবেষণায় দেখা গেছে, আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের কারণে সাধারণ রোগে গড়ে মৃত্যুঝুঁকি ২১ শতাংশ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে ২৪ শতাংশ। দীর্ঘস্থায়ী রোগে মৃত্যুহার বৃদ্ধিতে আর্সেনিকের সম্পৃক্ততার ব্যাপারটি ইতঃপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র, চিলি, আর্জেন্টিনা, তাইওয়ান এবং বাংলাদেশের মতলবে করা বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। প্রতি লিটার পানিতে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক পান করার ফলে ক্রনিক ডিজিজ যেমন- ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়বেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকি ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এই দাবি করেছে।

আরও পড়ুন- 

নেপোটিজম অ্যান্ড পনগলেক্ট : দ্য পাইলিং রেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার অব বাংলাদেশ’স রুরাল পুওর শীর্ষক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, বাংলাদেশের আর্সেনিক সংক্রান্ত অসুস্থতায় প্রতিবছর প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ মারা যায়।আর্সেনিকের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যান্সার, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা তৈরি হয়। প্রতিবেদনের লেখক ও এইচআরডব্লিউ’র জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড পিয়ার্সহাউজ বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের খাওয়ার পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার জন্য মৌলিক ও জরুরি পদক্ষেপগুলো নেয়া হচ্ছে না। সরকারের আচরণ এমন যে, সমস্যা অনেকাংশেই সমাধান হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে আর্সেনিক দূষণের শিকার এলাকাগুলোয় প্রায় ১৩ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়। সেগুলো সঠিক জায়গায় বসানো হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে তদন্তের আহ্বান জানায় এইচআরডব্লিউ।বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্সেনিক হলো ধূসর আভাযুক্ত সাদা রং বিশিষ্ট একটি উপধাতু। প্রকৃতিতে আর্সেনিক প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সাম্প্রতিককালে মনুষ্যসৃষ্ট কার‌্যাবলী যেমন অক্সিডেশনের ফলে আর্সেনিক ভূগর্ভস্থ পানিতে দ্রবীভূত হচ্ছে। আর সেই পানি নলকূপের মাধ্যমে তুলে পান করে বিপুলসংখ্যক মানুষ আর্সেনিকজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে আর্সেনিকোসিসের মূল কারণ ভূগর্ভস্থ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান ও জৈব আর্সেনিকযুক্ত (যেমন- শস্যকণা, শাকসবজি, মাংস, দুধ ইত্যাদি) খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ। যা নীরব ঘাতকের মতো মানবদেহের বহু ক্ষতি সাধন করে থাকে।২০১৭ সালে কিছু নির্বাচিত উপজেলা ১০ হাজার অধিবাসীর ওপর চালানো এক গবেষণায় ৮৭০ জন ব্যক্তি আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। এর মধ্যে পুরুষ ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ ও নারী ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ আক্রান্ত রোগী ৩১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। বর্তমানে এরা আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করায় ও নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করায় কিছুটা সুস্থ রয়েছেন।গবেষণায় চিকিৎসকদের মতে, আর্সেনিক রোগের লক্ষণগুলো হচ্ছে ত্বকে কালো কালো দাগের মাঝে সাদা সাদা দাগ যা বৃষ্টির ফোটার মত দেখায়, ত্বক কালচে বর্ণ ধারণ, হাত ও পায়ের চামড়ার পুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়া এবং চামড়া খসখসে হয়ে যাওয়া। তাছাড়া এ গবেষণায় প্রায় ১৬ শতাংশ রোগী বিভিন্ন ধরনের চামড়ার ক্যান্সার অথবা ক্যান্সার পূর্ববর্তী লক্ষণ এ আক্রান্ত ছিলেন আর্সেনিকোসিসের কারণে।

আরও পড়ুন- 

আপনার সাস্থ সেবা নিশ্চিত করতে  সরাসরি ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। কলিকাতা হারবাল কেয়ার  একটি আধুনিক আয়ুর্বেদ চিকিৎসা কেন্দ্র।

tag: 

 কলিকাতা হারবাল  কলিকাতা হারবাল কেয়ার   কলিকাতা হারবাল ডাক্তার  kolikata herbal care kolikata herbal kolikata herbal dhaka kolikata herbal doctor kolikata herbal medicine original kolikata herbal kolikata herbal treatment kolikata herbal mohammadpur popular kolikata harbal  কলিকাতা হারবাল ঔষধ